গাড়ি পেড়ানো মামলায় শত মত বিরোধী দলের নেতাদের জেলে যেতে হয়েছে , অনেকে এখনও জেলে আছেন, একটি বিরোধীদলের মহসচিব থেকে বড় নেতারা পর্যন্ত যেলে ছিলেন অনেকদিন যাবৎ, সম্প্রতি ফরিদপুরে আ. লীগ নেতা হালিমের গাড়িবহরে হামলা-গুলি ও আগুনের ঘটনায় কত জন গ্রেফতার হয়েছে ?? জনমনে প্রশ্ন গাড়ি পেড়ানো মামলা কি শুধু মাত্র বিরোধী দলের জন্য প্রযোজ্য?
ফরিদপুর-২ (সালথা ও নগরকান্দা) আসনে আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রাথী ও জনপ্রিয় নেতা মেজর (অব.) আ ত ম হালিমের গাড়ি বহরে হামলা চালিয়েছেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সমর্থকেরা।
এতে মেজর (অব.) হালিম ও সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তার গাড়ি বহরে হামলা চলিয়ে ১০ থেকে ১২টি গাড়ি ভাঙচুর করে ও দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। এ সময় মেজর (অব.) হালিমের ভাগ্নে নজরুল ইসলাম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত সবাইকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মেজর (অব.) আ ত ম হালিমের গাড়িতে থাকা নগদ ২২ লাখ টাকা, শর্টগান ও একটি পিস্তল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তার ভাগ্নে নজরুল ইসলাম।
এদিকে, মেজর (অব.) হালিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করায় তাকেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া বাজার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফরিদপুর-২ আসনের আওয়ামী লীগের সম্ভব্য প্রাথী মেজর (অব.) আ ত ম হালিম তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করতে গ্রামের বাড়ি নগরকান্দা থানার বল্লভদী গ্রামে যাওয়ার জন্য শনিবার সকালে ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় থেকে শতাধিক মাইক্রোবাসের মোটর শোভাযাত্রাসহ রওয়ানা দেন।
পথিমধ্যে ঠেনঠেনিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সমর্থক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল রহমান চয়ন, আবু জাফর মিয়া, হাবিব মুন্নুর নেতৃত্বে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মেজর (অব.) হালিমের গাড়ি বহরে অতর্কিতে হামলা চালায়।
হামলায় মেজর (অব.) হালিম ও দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদপুর প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম হিমেলসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়।
এ সময় হামলাকারীরা মেজর (অব.) হালিমের গাড়ির বহরে থাকা সাংবাদিকদের বহনকারী তিন মাইক্রোবাসসহ ১০/১২টি মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে ও মেজর (অব.) হালিমকে বহন করা গাড়িসহ অপর একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অপরদিকে, ঘটনার দুই ঘণ্টা পরও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি বলে অভিযোগ করেছেন মেজর (অব.) হালিমের সমর্থকরা।
এ বিষয়ে জানতে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবছার উদ্দিনকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
হাসপাতাল থেকে মেজর হালিম সাংবাদিকদের বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর লোকজন হামলা চালিয়ে গাড়ি ভাঙচুর ও আমার সমর্থকদের কুপিয়ে ও গুলি করে আহত করেছে।”
তিনি বলেন, “ওরা চেয়েছিল আমাকে হত্যা করতে, যাতে করে এই আসনে আমি আর নির্বাচন না করতে পারি।”
বাংলাদেশ সময়: ১৪১৪ ঘণ্টা, জুলাই ২০, ২০১৩