বিএনপিকে নিয়ে দেশের জনগণ আতঙ্কে রয়েছে। বিএনপি আবার সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আর তাদের যুদ্ধ হলো সরকার পতনের আন্দোলনের নামে দেশের নিরীহ মানুষকে পেট্রোলবোমা মেরে পুড়িয়ে মারা। বিএনপির এ ধরনের হুমকিতে সরকার নয়, দেশের সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। বিএনপিকে নিয়ে সরকারের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ বিএনপি তার ভুল রাজনীতির জন্য নিজের করা গর্তে নিজেই পড়ে গেছে। বিএনপির নির্বাচন সহায়ক সরকার ও নকল ভিশন দিয়ে কোন লাভ হবে না। দেশের সংবিধানে নির্বাচন সহায়ক সরকারের কোন অস্তিত্ব নেই। আর তাই সংবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো নির্বাচন বাংলার মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ নির্বাচন পরিচালনা করবে। বাংলাদেশের মানুষ দেখছে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশে জঙ্গিবাদের কেমন বিস্তার ঘটে, দেশের প্রায় সব জেলায় একযোগে বোমা হামলা হয়– আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তা হয় না। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নেও আওয়ামী লীগের অবস্থান বিএনপির মতো দোদুল্যমান ও অস্পষ্ট নয়। জামাতের সঙ্গে আওয়ামী লীগও একযোগে আন্দোলন করেছিল, এই ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা এখন আর খুব সহজ নয়। জামাতকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতার অংশীদার করেননি। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে স্বাধীন বাংলাদেশের গৌরবের পতাকা তুলে দেয়নি। মানুষ এটা দেখছে যে বিএনপি আর জামায়াত এখন এক ও অভিন্ন। কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারে না। বেগম জিয়ার ডাকে দলের নেতাকর্মীরা মাঠে নেই। শুধুমাত্র জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী, নিজ দলের কিছু ক্যাডার এবং ভাড়াটে দুর্বৃত্তদের দিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে ভীতি ও আতংক ছড়িয়ে দেশে ‘গণঅভ্যুত্থান’ ও সরকার পতনের স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি নেত্রী। কিন্তু এটা তার ভ্রান্তিবিলাস। নির্বিচারে মানুষ মেরে, দেশের সম্পদ ধ্বংস করে, অর্থনীতি পঙ্গু করে আর যাই হোক, কোনো সফল গণঅভ্যুত্থান যে করা যায় না, এটা তিনি বুঝতে পারছেন না। বেগম জিয়ার উচিত সরকার পতনের ভ্রান্তিবিলাস ও কঠোর আন্দোলনের অসময়োচিত সিদ্ধান্ত থেকে অবিলম্বে সরে আসা। তাতেই তার দল ও দেশের বেশি উপকার হবে।
↧