মহাত্মা গান্ধী মুসলমান সম্প্রদায়ের কত প্রিয় ছিলেন, মুসলমান সম্প্রদায় গান্ধীকে কীভাবে আশা ভরসা আর তাঁদের শেষ আশ্রয় মনে করতো সেটা আবুল মনসুর আহমেদের আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর বইটা পড়লে বোঝা যায়। যখন গান্ধী মৃত্যুর খবর কোলকাতায় আসলো তখন দূর দুরান্ত থেকে মুসলিম নেতারা আতঙ্ক আর বেদনা নিয়ে আবুল মনসুরের ইত্তেহাদ অফিসে ভিড় জমাতে লাগলেন। তাঁদের মধ্যে থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা নাখোদা মসজিদের পেশ ইমাম সাহেব বললেন, "গান্ধীজী তো মারা গ্যায়ে, আব মুসলমান কো ক্যা হোগা?"
পরদিন ইত্তেহাদে আবুল মনসুর সাহেব গান্ধীর মৃত্যু নিয়ে একটা কড়া প্রবন্ধ লিখলেন,"হিন্দু জাতির নীচতাই মহাত্মাজির উচ্চতার প্রমাণ। রোগ যত কঠিন হয়, তত বড় ডাক্তার দরকার হয়। মহাত্মা গান্ধী এমন মুনি- ঋষি - তুল্য মহৎ ব্যাক্তি ছিলেন যে আফ্রিকার জঙ্গলে যদি তিনি খালি পায়ে খালি হাতে বেড়াইতেন, তবে সেখানকার বাঘ-ভল্লুক ও সাপ বিচ্ছুও তাঁকে আঘাত করিত না। তেমন মহাপুরুষের গায়ে হাত দিবার, তাঁকে খুন করিবার লোক হিন্দু সমাজ ছাড়া আর কোন মানব গোষ্ঠীতে পাওয়া যাইত না। এতে প্রমানিত হইল যে হিন্দু জাতি মানব জাতির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। সেই সঙ্গে এটাও প্রমানিত হইল যে মহাত্মাজী বর্তমান বিশ্বের মহত্ত্ব ও উচ্চতম পুরুষ। কারণ আল্লা নিকৃষ্টতম অধঃপতিত জাতির চিকিৎসার জন্য নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ মহাপুরুষই পাঠাইয়াছিলেন।"
উনি অবশ্য সাথে সাথে এটাও বলেছিলেন, "মুসলমানের বিরুদ্ধে এমন কথা বলিলে তা পাকিস্তানেই হোক, আর হিন্দুস্থানেই হোক, মহাত্মাজীর পিছে পিছেই আমাকে দুনিয়া ত্যাগ করিতেই হইত। কাজেই শেষ পর্যন্ত বুঝিলামঃ হিন্দু সমাজ নীচ বটে কিন্তু সে নীচতা বুঝিবার মতো উচ্চতাও তাঁদের আছে।"
গান্ধীর হত্যাকারি নাথুরাম গডসে কোর্টে একটা জবানবন্দি দিয়েছিল। সময় হলে পড়ে দেখবেন। দেখবেন আজকেও একই যুক্তি দেয়া হয় যখন মুসলমানের পক্ষে কোন হিন্দু কথা বলে বা বলতে চায়; যদি দুই সম্প্রদায় কে কাছাকাছি আনতে চায়। তখনই নাথুরামের প্রেতাত্মার আশীর্বাদ নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সেইসব নব্য তুর্কিরা তাদের ঘৃণার ঢাল তলোয়ার নিয়ে সেই হতভাগার উপরে ঝাপিয়ে পড়ে।
গান্ধীর মৃত্যু সংবাদ শুনে বার্নাড শ ঠিকই বলেছিলেন, "হাও ডেঞ্জারাস ইট ইজ টু বি অ্যা গুড ম্যান।"
↧
দাদা ভাইদের সাথে আমাদের মিল অমিল
↧