আন্তরিকতা আর নিষ্ঠাই যে ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। এ দেশে এক সময় গণ পরিবহণ নিয়ে জণগনের হতাশার প্রতীকী প্রতিচ্ছবি ছিলো – নয়টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে? কিন্তু দায়বদ্ধতায় উজ্জীবিত গণতান্ত্রিক সরকারের সদিচ্ছার কারণেই অভিনব পরিবর্তন সূচিত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়েতে। যদিও এখনো যাত্রীদের চাহিদা ও প্রাপ্তির মধ্যে অনেক ফারাক। তারপরেও উন্নতি হচ্ছে রেলওয়ের। চাহিদা অনুযায়ী টিকিট ও ট্রেন সংকট কাটেনি। তারপরেও এবার ঈদে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী বহন করেছে রেলওয়ে। নতুন কোচ যুক্ত হওয়ায় সারাদেশে ট্রেনের আসন সংখ্যা বেড়েছে ৩০ হাজার। ঈদ উপলক্ষে ১৭১টি নতুন কোচ ও ২১টি লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ট্রেনের বহরে যোগ হয়েছে। লাখ লাখ যাত্রী বহন করেও এবার ঈদে ট্রেনে সিডিউল বিপর্যয় ঘটেনি। বরং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নতি হয়েছে। এসব কারনে ট্রেনের উপর যাত্রীদের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বাড়ছে টিকিটের চাহিদাও। মূলত ঈদ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রীদের শতভাগ সেবা দেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দেয়াতেই এ পরিবর্তনের সূচনা। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ি কার্যক্রম পরিচালিত হওয়াতেই গতবছরের মতো এবারও ট্রেনের সিডিউলের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। ‘৯ টার ট্রেন কয়টায় ছাড়ে’- এই প্রবাদটির এক সময় বহুল প্রচলন ছিল। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ছিল রেলের সবচে বড় সমস্যা। যাত্রীসেবার মান বলে কিছু ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে গত কয়েক বছরে এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পুরনো সেই বদনাম কাটিয়ে রেল এখন উন্নতির দিকে। রেলওয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ছয় বছরে রেলের সময়ানুবর্তিতা ৬২ দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০১২ সালে রেলের সার্বিক গড় সময়ানুবর্তিতা ছিল ৬২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বর্তমানে সার্বিক সময়ানুবর্তিতার উন্নতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ দশমিক ৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ ছয় বছরে রেলের সময়ানুবর্তিতা বেড়েছে ২৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ট্র্যাক (রেললাইন) সংস্কার, নতুন ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহ, টিকেটিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিভিন্ন সেকশনে একাধিক সিঙ্গেল লাইনকে ডাবল লাইনে রূপান্তর, পুরনো সেতু সংস্কার ও লোকবল নিয়োগের কারণে রেলের সময়ানুবর্তিতায় এ অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও রেলেকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বৃদ্ধি করেছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের অধীনে আন্তঃনগর, মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলকারী মেইন লাইনগুলোর আমূল পরিবর্তন করা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে প্রতিটি ট্রেনের গতি বাড়ানো হয়েছে। কমেছে গন্তব্যে পৌঁছানোর সময়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পুরনো বন্ধ স্টেশন চালু করা, স্টেশনমাস্টার নিয়োগ, ইন্টারলকিংয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সেকশনে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে ট্রেনের যাত্রা ও গন্তব্যে পৌঁছার সময়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে। রেলের বার্ষিক সময়ানুবর্তিতা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১২ সালে আন্তঃনগর ট্রেনের গড় সময়ানুবর্তিতা ছিল ৭০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। একই সময়ে মেইল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা ছিল ৩৬ দশমিক ৮৪ এবং লোকাল ট্রেনের ৮০ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে ২০১৪ সাল থেকেই সময়ানুবর্তিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-সিলেট ও ঢাকা-সিলেট রেলপথের বেশ কয়েকটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন, নতুন কোচ সংযোজনের কারণে গড় সময়ানুবর্তিতা ২০১৬ সালে ৮৯ দশমিক ৬০ শতাংশে উন্নীত হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসের গড় সময়ানুবর্তিতা ৯১ দশমিক ৬৭ শতাংশে উঠে এসেছে। যা দেশের রেলওয়ের ইতিহাসে অভিনব এবং অকল্পনীয়ও বটে।
↧