২০০৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০৯ সালে ২৪ জুলাই বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অষ্টাদশ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেন। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে দেশের তৃণমূল থেকে রাজধানী শহর পর্যন্ত সকল মানুষের কাছে তথ্যপ্রবাহ ও প্রযুক্তিকে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয় বর্তমান সরকার, যা উন্নত বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঊনিশতম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ কাউন্সিলে শেখ হাসিনা সভাপতি ও সৈয়দ আশরাফকে পুনঃসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম ধর্মীয় উন্মাদনা নির্ভর তান্ডব ও বিএনপি জামায়াত দেশব্যাপী জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি শুরু করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে তা মোকাবেলা করেন। অতঃপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিএনপি জামায়াত ছাড়া সকল দলই অংশগ্রহণ করে। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৬ সালের ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিশতম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এ কাউন্সিলে সভাপতি হন শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর হাত ধরে যে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের একমাত্র অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতি মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে জনগণের নেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে সেই আওয়ামী লীগ আজও বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক দল যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিরাপদ আশ্রয়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ঘোষিত ভিশন ২০২১ এর পথ বেয়ে ২০৪১ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রের লক্ষ্যে পৌঁছে দেবেন, এটাই তার একমাত্র ব্রত। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও দেশ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য নির্মূল করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ তারই প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সার্বিক যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে রাজধানী থেকে বিভিন্ন রুটকে চার লেনে উন্নতকরণ এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে এ্যালিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্ট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে জননন্দিত, দেশের গণমানুষের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার – প্রকারান্তরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। শুভ কামনা রইল জননন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের প্রতি। শুভ হোক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই পথ চলা। বাস্তবায়িত হোক সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আজন্মলালিত আকাঙ্খার – এটাই এ জনপদের প্রতিটি মানুষের একমাত্র চাওয়া। - (শেষ)
↧