সাম্প্রতিক ভার্সন হলো- ভ্যান বড় না ডিগ্রী বড়? অনার্স, মাস্টার্স করা কৃতি ছাত্রগুলো চাকরি খুঁজে নিরাশ হচ্ছে, পাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে নিম্নমানের কাজ, খারাপ পথ এমন কি আত্মহত্যাও করছে। তাদের একজনের বদলে চাকরি পেলো নিজের এলাকার এক ভ্যান চালক। আমজনতার প্রশ্ন উচ্চ শিক্ষায় অর্থ ব্যয় না করে ভ্যান শিক্ষায় শিক্ষিত হোন।
যুক্তির খাতিরে যুক্তি উপস্থাপন করেছি মাত্র, সাম্প্রতি শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা বলছেন বড় বড় নেতারা বলেন অমুক শিক্ষিত অমুক এইট পাশ অমুক মেট্রিক পাশ......... দেশে অনেক শিক্ষিত অনেক লোক বেকার, চাকুরী পাচ্ছে না, বেশী লেখা পড়া করে নিম্ন চাকুরীতেও জয়েন করে, অনেকে বেকার থেকেই জীবনের পরিসমাপ্তি করে...........বিশ্বের অনেক নামি দামি নেতা আছেন যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই, রাজনীতিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে যোগ্যতা মাপা হয়, বাংলাদেশেও স্বাধীনতার পর খোদ আওয়ামীলীগের অনেক কিছু হতেন ডক্টর কামাল হোসেন কারন সেই সময়ে ডক্তর কামাল হোসেনই বেশী শিক্ষিত ছিলেন, তিনি এত শিক্ষিত হবার পরও এমপি পর্যন্ত হতে পারেন নি !
আর আর আপনারা যারা বারবার দাবি করেন অমুক অশিক্ষিত আমরা শিক্ষিত, কিন্ত অমুকের আমলে পাঠ্যপুস্তকের ভূল নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠে নি, এত শিক্ষিত লোক থাকতেও পাঠ্যপুস্তকের ভুল নিয়ে শিশুরাও হাসাহাসি করে....
পুঁথি গত শিক্ষা নয়, দরকার প্রকৃত শিক্ষা, আর শিক্ষা অহংকারের কোন কিছু নয়
তাই যদি হতে প্রতি বৎসর বাের্ডের স্টেন্ড করা ছাত্ররাই বড় বড় নেতা হত
কৈ তারা তো রাজনীতি করেনও না, রাজনীতিতে বেশীর ভাগ তারাই ভালো করে
যাদের টাকা আছে আর মাছেল পাওয়ার আছে............
বিএনপি আর আওয়ামীলীগ আর জাতিয়পার্টির মধ্যে ব্যাসিক পার্থক্য নেই...........বিএনপি বিরোধী দলকে সভা করতে দেয় নি বলে তারাও বিরোদলকে সভা করতে দিচ্ছে না
ছাত্রইউনিয়নের ছেলে মেয়েরা যখন যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান করে তখন সরকারের অনেক বড় বড় নেতা তাদের সমর্থন দিতে সেখানে ছুটে গেছেন, বাহবা দিয়েছেন.... সেই সময়ে বিএনপি আর জামাত থেকে বলা হয় শাহবাগে লোক জন নারীদের নিয়ে বসে থাকে, সিগেরেট ফুঁকে ইত্যাদি
অপরদিকে
ছাত্রইউনিয়নের ছেলে মেয়েরা যখন সুন্দরবন রক্ষার বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান করে , হরতাল করে, বিক্ষোভ করে.... সেই সময়ে আওয়ামীলীগ আর তাদের মিত্র জাতিয়পার্টি থেকে বলা হয় শাহবাগে লোক জন নারীদের নিয়ে বসে থাকে, সিগেরেট ফুঁকে ইত্যাদি
বিশ্বের কয়েকজন জনপ্রিয় নেতার নাম বলছি, যারা স্কুলের গন্ডি পার হয়েছে কিনা জানিনা তবে তারা অনেকেই খুব জনপ্রিয় ছিলোঃ
Adolf Hitler এক নামে যার পরিচিত আছে সারা দুনিয়ায়,খ্যাতি,কুখ্যাতি,যশ সব পাওয়া এই নেতা স্কুল পাশ করতে পারেন নি।
Walter Nash ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড সোজা করার রুপকার জনপ্রিয় অর্থ মন্ত্রী এবং পরে ১৯৫৭ সালে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব দেওয়া এই জনপ্রিয় নেতা পড়াশুনার ব্যাপারে ছিলেন খুবই দুর্বল।স্কুলের গন্ডি পার হতে পারেন নি তিনি
১৯৯০ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা Conservative পার্টির নেতা হলেন John Major যিনি ১৬ বছর বয়সেই স্কুল ছেড়ে দেন আর কোনদিন পড়াশুনার ব্যাপারে আগ্রহ দেখান নি।
কমিউনিস্ট আন্দোলনের অগ্রপথিক Ho Chi Minh ছিলেন ১৯৪৫-১৯৫৫ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এবং ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত উত্তর ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট।Ho Chi Minh ছিলেন ভিয়েতনামের স্বাধীনতার পখখে এবং ভিয়েতনামের স্বার্থে আন্তর্জাতিক বিশ্বে জোরাল কণ্ঠ।টাইম ম্যাগাজিনের জরিপে বিশ শতকের অন্যতম influential people হিসেবে নাম থাকলেও পড়াশুনায় বেশী দূর যেতে পারেন নি।
সোভিয়েত ইউনিয়নের অসংবাদিত নেতা Joseph Stalin ১৯২২ থেকে প্রেসিডেন্ট ছিলেন ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত।আলোচিত এই নেতা স্কুল থেকে চলে আসেন ১৮৯৯ সালে।
আমেরিকার অন্যতম আলোচিত প্রেসিডেন্ট হলেন John F. Kennedy যিনি ১৯৩৫ সালে স্কুল ত্যাগ করেন।